বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি-র কলকাতা সফর ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাসই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় বিশৃঙ্খলায়। শনিবার সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় চরম বিশাল ভিড়, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং হতাশা—যার ফলে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রশ্নের মুখে পড়ে।
মাত্র কয়েক মিনিটের উপস্থিতিতেই শুরু অসন্তোষ
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মেসি যুবভারতী স্টেডিয়ামে পৌঁছালেও, তিনি সেখানে ছিলেন মাত্র ২০ মিনিটের মতো। এত অল্প সময়ের উপস্থিতি ভক্তদের বড় অংশের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে থাকা বহু দর্শক অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভিড়ের কারণে তাঁরা মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতেই পাননি। অনেকের বক্তব্য, “এত দামি টিকিট কেটে এসেও মেসির মুখটাই দেখা গেল না।”
হতাশা থেকে উত্তেজনা, ভাঙচুরের অভিযোগ
মেসিকে দেখতে না পাওয়ার হতাশা ধীরে ধীরে ক্ষোভে রূপ নেয়। স্টেডিয়ামের একাধিক অংশে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, কেউ কেউ চেয়ার ভাঙচুর করেন, পানির বোতল ছুড়ে মারেন এবং স্লোগান দিতে শুরু করেন। অনেকেই বলেন, দামি টিকিট কেটে এসেও তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যা সামাল দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ
ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ধাপে ধাপে দর্শকদের স্টেডিয়াম থেকে বের করে আনা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছিল।
রাজ্য সরকারের ক্ষমা, তদন্তের নির্দেশ
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠানে দর্শকদের অভিজ্ঞতা ভালো হওয়া উচিত ছিল।”
এই ঘটনার পিছনে কী কী ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, আটক এক সংগঠক
পুলিশ জানিয়েছে, ইভেন্ট পরিচালনায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে এক আয়োজককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এছাড়াও অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ইভেন্টের জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।
এই বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের ভূমিকা এখন তীব্র সমালোচনার মুখে।
কলকাতা ছাড়লেন মেসি, সফর অব্যাহত
সব ঘটনার মাঝেই লিওনেল মেসি কলকাতা ছেড়ে তাঁর ভারত সফরের পরবর্তী গন্তব্য হায়দ্রাবাদ রওনা দিয়েছেন। তবে কলকাতার এই বিশৃঙ্খলার ছবি ও খবর ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
উপসংহার
লিওনেল মেসির মতো বিশ্বমানের তারকার সফর কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্বল পরিকল্পনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সমন্বয়ের অভাবে সেই আনন্দের মুহূর্ত পরিণত হয় হতাশায়।
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল—শুধু বড় নাম আনলেই যথেষ্ট নয়, সঠিক আয়োজন ও দর্শকদের অভিজ্ঞতাই একটি ইভেন্টের সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।
